করোনাকালে দেশে নিত্যপণ্যের বাজার দর
শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী জনগণের নাভিশ্বাস
করোনাকালে দেশে নিত্যপণ্যের বাজার দর
শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী জনগণের নাভিশ্বাস
আন্দোলন প্রতিবেদন
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | অনলাইন সংস্করণ
করোনাকালে দেশের জনগণের বিরাট একটা অংশ কাজ/চাকরি হারিয়েছেন। কাজ না থাকা বাসাভাড়া না দিতে পারার কারণে অনেকে গ্রামের বাড়িতে পাড়ি দিয়েছেন। যারা শহরে থেকে কাজ করছেন তারাও পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন না। ছোট-খাট ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় মন্দা চলছে। মধ্যবিত্তশ্রেণি যারা তাদেরও আয়-রোজগার কমাতে তাদের একটা অংশও পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। যারা আছেন তারাও ছোট বাসাভাড়া নিয়ে থাকছেন। যারা বাসাভাড়া দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন সেই বাড়িয়াওয়ালারাও এখন এই সংকট মোকাবেলা করছেন। করোনাকালের আর্থিক দুরাবস্থা এখন আরো প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে বাজারের জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে।
বাজারে এখন মোটা চালের দাম ৪১-৪৪ টাকা। কিন্তু ভাল মানের মোটা চালের দাম ৪৬-৪৮ টাকা। দেশের দরিদ্র মানুষ সাধারণত মোটা চালই খান। দরিদ্র মানুষের খাদ্য ব্যয়ের বড় অংশই চলে যায় এখন চাল কেনায়। যা গত বছরে একই সময়ের থেকে ৩৬-৬৮ শতাংশ বেশি। করোনা ছাড়াও এবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং বন্যার কারণে মানুষের অবস্থা আরো নাজেহাল। সরকার দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা মুল্যে বা কম মূল্যে যে চাল বিতরণের ব্যবস্থা নামমাত্র করেছিল তা বর্তমান পরিস্থিতিতেও বাড়ায়নি। এমনকি ট্রাকে করে খোলা বাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে। হাসিনা সরকারের ‘খাদ্যবান্ধব’কর্মসূচি ১০ টাকা সের চাল বিক্রিও বন্ধ। দেশে করোনাকালেও ধানের ফলন কম হয়নি। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিআরআরআই) বলছে, নভেম্বর নাগাদ উদ্বৃত্ত চাল দাঁড়াবে ৫৫ লাখ টন। খাদ্যসচিব বলছে দেশে চালের কোন সংকট নেই। তা হলে কেন চালের দাম বাড়ছে?
দেশে মোটা চাল ছাড়াও আলু সবজি, পেঁয়াজ ও ডিম-এর দাম বেশি হওয়ায় দরিদ্র মানুষ দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। কারণ সাধারণ মানুষ এইগুলোই খেয়ে বাঁচে। আলুর কেজি ৩৬-৪০ টাকা। যা থাকে সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে। দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা। গত বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গিয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করেও পেঁয়াজের ঝাঁজ কমাতে পারেনি। এবারও শুনা যাচ্ছে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ইতিমধ্যে ভারত বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এটা যতটা না পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য তার চেয়েও বাংলাদেশকে চাপে রাখার কৌশলও হতে পারে। এই আভাস পেয়েই হয়তো বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী আগেভাগেই অন্য দেশ থেকেই পেঁয়াজ আমদানির কথা জোরেশোরে বলা শুরু করেছে।
বলা হচ্ছে দেশে মোটা চালের উৎপাদন কম করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে করোনা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্র হয়ে গেছে। এসব কারণে মোটা চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম বেড়ে গেছে। তাহলে বোঝাই যায় দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ অর্থাভাবে মোটা চাল খান। অথচ মোটা চালের উৎপাদন কম করা হচ্ছে। দেশে উৎপাদন পরিকল্পনা করা হয় ধনী লোকদের চাহিদা অনুযায়ী এবং তাদের সুবিধার্থে। আলুর দাম কেন বেড়ে গেছে? আলুতো এই সিজনে উৎপাদন হয় না। আলুর দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে করোনা ও বন্যায় ত্রাণে ব্যাপক আলু বিতরণের কারণে আলুর চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদ বাড়লেই দাম বাড়বে কেন? বাজারে আলু, সবজি বা নিত্য পণ্যের অভাব নেই। মুনাফাখোররা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করছে। করোনাকালে আমরা পোল্ট্রি ফার্মের কৃষকদের আহাজারি শুনেছি। মুরগী, ডিম বিক্রি না হওয়ায় তাদের ব্যাপক লোকসান হচ্ছে। এখন ডিম-মুরগীর দাম কেন বেড়ে গেলো। বলা হচ্ছে বর্ষাকালে সবজির উৎপাদন কম হওয়ায় সবজির দাম বেশি হয়। বন্যার সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কম- ইত্যাদি কারণে মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। এগুলো বুর্জোয়া ব্যবস্থায় মুনাফালোভীদের অজুহাত। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারবার।
গরীব কৃষকরা ত্রিমুখী শোষণের শিকার। জোতদার-মহাজন-ইজারাদার, কৃষি উপকরণ বিক্রয়কারী ব্যবসায়ী এবং উৎপাদিত পণ্য ক্রেতা মধ্যসত্বভোগী ফড়িয়া ব্যবসায়ী দ্বারা। কৃষক বেশি টাকার ভাড়া দিয়ে জমি লিজ নেয়, কৃষি উপকরণ বেশি দামে ক্রয় করে এবং উৎপাদিত পণ্য কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে দেশের কৃষকদের দারিদ্রতা বাড়ছে, তারা দরিদ্র হচ্ছেন। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে ২০১০ সালে দিনাজপুর জেলার ৩৭ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। ২০১৬ সালে এ হার ৬৪ শতাংশে পৌঁছায়। কুড়িগ্রাম জেলায় ৭১ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। যদিও দেশের সব জেলার দারিদ্রের হার একই নয়। দেশে দরিদ্রের হার বাড়ছে বিশেষত উত্তরাঞ্চলে। এখন করোনাকালে শ্রমিক-কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষ আরো দরিদ্র হচ্ছে। একদিকে কৃষক ত্রিমুখী শোষণে দরিদ্র হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণ বেশি দামে কৃষি পণ্য ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের জীবনযাত্রার মান আরো নিচে নেমে যাচ্ছে। আর মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া এবং মজুতদার ব্যবসায়ীরা লাভাবনা হচ্ছে। তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। আওয়ামী-হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার এই আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ, মজুতদার, মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। দেশের কৃষক ও কৃষিকে ধ্বংস করে তাকে বিদেশ নির্ভর করে বিদেশী এবং দেশী মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের শোষণের অভয়ারণ্যে পরিণত করে নিজেরা কমিশন খেয়ে তাদের পাহারা দিচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদী সরকার এবং দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শাসকশ্রেণিকে যতদিন না দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে ততদিন কৃষক মহাজনী-মুৎসুদ্দি শোষণ থেকে মুক্তি পাবে না, তার পণ্যের ন্যয্যমূল্যও পাবে না। তাদের উপর মহাজনী এবং ফরিয়া শোষণ বন্ধ হবে না। এবং শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণও ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য, খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারবেন না। তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্র হতেই থাকবেন। একে প্রতিরোধ-প্রতিকার করতে হলে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামজাতন্ত্র ও কমিউনিজমের পথে আগাতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
করোনাকালে দেশে নিত্যপণ্যের বাজার দর
শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী জনগণের নাভিশ্বাস
করোনাকালে দেশের জনগণের বিরাট একটা অংশ কাজ/চাকরি হারিয়েছেন। কাজ না থাকা বাসাভাড়া না দিতে পারার কারণে অনেকে গ্রামের বাড়িতে পাড়ি দিয়েছেন। যারা শহরে থেকে কাজ করছেন তারাও পূর্ণ বেতন পাচ্ছেন না। ছোট-খাট ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় মন্দা চলছে। মধ্যবিত্তশ্রেণি যারা তাদেরও আয়-রোজগার কমাতে তাদের একটা অংশও পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। যারা আছেন তারাও ছোট বাসাভাড়া নিয়ে থাকছেন। যারা বাসাভাড়া দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন সেই বাড়িয়াওয়ালারাও এখন এই সংকট মোকাবেলা করছেন। করোনাকালের আর্থিক দুরাবস্থা এখন আরো প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে বাজারের জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে।
বাজারে এখন মোটা চালের দাম ৪১-৪৪ টাকা। কিন্তু ভাল মানের মোটা চালের দাম ৪৬-৪৮ টাকা। দেশের দরিদ্র মানুষ সাধারণত মোটা চালই খান। দরিদ্র মানুষের খাদ্য ব্যয়ের বড় অংশই চলে যায় এখন চাল কেনায়। যা গত বছরে একই সময়ের থেকে ৩৬-৬৮ শতাংশ বেশি। করোনা ছাড়াও এবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং বন্যার কারণে মানুষের অবস্থা আরো নাজেহাল। সরকার দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা মুল্যে বা কম মূল্যে যে চাল বিতরণের ব্যবস্থা নামমাত্র করেছিল তা বর্তমান পরিস্থিতিতেও বাড়ায়নি। এমনকি ট্রাকে করে খোলা বাজারে চাল বিক্রি কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে। হাসিনা সরকারের ‘খাদ্যবান্ধব’কর্মসূচি ১০ টাকা সের চাল বিক্রিও বন্ধ। দেশে করোনাকালেও ধানের ফলন কম হয়নি। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিআরআরআই) বলছে, নভেম্বর নাগাদ উদ্বৃত্ত চাল দাঁড়াবে ৫৫ লাখ টন। খাদ্যসচিব বলছে দেশে চালের কোন সংকট নেই। তা হলে কেন চালের দাম বাড়ছে?
দেশে মোটা চাল ছাড়াও আলু সবজি, পেঁয়াজ ও ডিম-এর দাম বেশি হওয়ায় দরিদ্র মানুষ দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। কারণ সাধারণ মানুষ এইগুলোই খেয়ে বাঁচে। আলুর কেজি ৩৬-৪০ টাকা। যা থাকে সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে। দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা। গত বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে গিয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করেও পেঁয়াজের ঝাঁজ কমাতে পারেনি। এবারও শুনা যাচ্ছে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ইতিমধ্যে ভারত বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এটা যতটা না পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য তার চেয়েও বাংলাদেশকে চাপে রাখার কৌশলও হতে পারে। এই আভাস পেয়েই হয়তো বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী আগেভাগেই অন্য দেশ থেকেই পেঁয়াজ আমদানির কথা জোরেশোরে বলা শুরু করেছে।
বলা হচ্ছে দেশে মোটা চালের উৎপাদন কম করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে করোনা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ দরিদ্র হয়ে গেছে। এসব কারণে মোটা চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম বেড়ে গেছে। তাহলে বোঝাই যায় দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ অর্থাভাবে মোটা চাল খান। অথচ মোটা চালের উৎপাদন কম করা হচ্ছে। দেশে উৎপাদন পরিকল্পনা করা হয় ধনী লোকদের চাহিদা অনুযায়ী এবং তাদের সুবিধার্থে। আলুর দাম কেন বেড়ে গেছে? আলুতো এই সিজনে উৎপাদন হয় না। আলুর দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে করোনা ও বন্যায় ত্রাণে ব্যাপক আলু বিতরণের কারণে আলুর চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদ বাড়লেই দাম বাড়বে কেন? বাজারে আলু, সবজি বা নিত্য পণ্যের অভাব নেই। মুনাফাখোররা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করছে। করোনাকালে আমরা পোল্ট্রি ফার্মের কৃষকদের আহাজারি শুনেছি। মুরগী, ডিম বিক্রি না হওয়ায় তাদের ব্যাপক লোকসান হচ্ছে। এখন ডিম-মুরগীর দাম কেন বেড়ে গেলো। বলা হচ্ছে বর্ষাকালে সবজির উৎপাদন কম হওয়ায় সবজির দাম বেশি হয়। বন্যার সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কম- ইত্যাদি কারণে মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। এগুলো বুর্জোয়া ব্যবস্থায় মুনাফালোভীদের অজুহাত। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারবার।
গরীব কৃষকরা ত্রিমুখী শোষণের শিকার। জোতদার-মহাজন-ইজারাদার, কৃষি উপকরণ বিক্রয়কারী ব্যবসায়ী এবং উৎপাদিত পণ্য ক্রেতা মধ্যসত্বভোগী ফড়িয়া ব্যবসায়ী দ্বারা। কৃষক বেশি টাকার ভাড়া দিয়ে জমি লিজ নেয়, কৃষি উপকরণ বেশি দামে ক্রয় করে এবং উৎপাদিত পণ্য কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে দেশের কৃষকদের দারিদ্রতা বাড়ছে, তারা দরিদ্র হচ্ছেন। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে ২০১০ সালে দিনাজপুর জেলার ৩৭ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। ২০১৬ সালে এ হার ৬৪ শতাংশে পৌঁছায়। কুড়িগ্রাম জেলায় ৭১ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। যদিও দেশের সব জেলার দারিদ্রের হার একই নয়। দেশে দরিদ্রের হার বাড়ছে বিশেষত উত্তরাঞ্চলে। এখন করোনাকালে শ্রমিক-কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষ আরো দরিদ্র হচ্ছে। একদিকে কৃষক ত্রিমুখী শোষণে দরিদ্র হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণ বেশি দামে কৃষি পণ্য ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের জীবনযাত্রার মান আরো নিচে নেমে যাচ্ছে। আর মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া এবং মজুতদার ব্যবসায়ীরা লাভাবনা হচ্ছে। তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। আওয়ামী-হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার এই আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ, মজুতদার, মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। দেশের কৃষক ও কৃষিকে ধ্বংস করে তাকে বিদেশ নির্ভর করে বিদেশী এবং দেশী মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের শোষণের অভয়ারণ্যে পরিণত করে নিজেরা কমিশন খেয়ে তাদের পাহারা দিচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদী সরকার এবং দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শাসকশ্রেণিকে যতদিন না দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে ততদিন কৃষক মহাজনী-মুৎসুদ্দি শোষণ থেকে মুক্তি পাবে না, তার পণ্যের ন্যয্যমূল্যও পাবে না। তাদের উপর মহাজনী এবং ফরিয়া শোষণ বন্ধ হবে না। এবং শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণও ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য, খাদ্যদ্রব্য কিনতে পারবেন না। তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্র হতেই থাকবেন। একে প্রতিরোধ-প্রতিকার করতে হলে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামজাতন্ত্র ও কমিউনিজমের পথে আগাতে হবে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র